বয়কট / আত্মনির্ভরতা

ভারতীয়দের আত্মনির্ভরতার মিনিংটা ঠিক মাথায় ঢোকে না কখনোই। আমি ক্রিটিক্সদের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা একজন ঠিকই কিন্তু ‘ভোকাল ফর লোকাল’ কথাটা মিথ্যে আত্মির্ভরশীলতার আড়ালে এভাবে মিলিয়ে গেল এটাই বিশাল ব্যপার। মিথ্যে কেন সেটা বলছি ধীরে ধীরে। বয়কট চীনের থেকেও বেশি দরকারি এবং বেশি এফোর্ট দেওয়া উচিত ছিল গরীব মানুষ যারা এখন খেতে পারছে না ঠিকমত দুবেলা তাদের জন্য কিছু করা। আমাদের প্রাইম মিনিস্টার বলেও দিলেন ওই টার্মটা, ভোকাল ফর লোকাল কিন্তু ঐযে আবার সেই টাকার খেলা শুরু, বিভিন্ন বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা রাতদিন এক করে আবিষ্কার করলেন আত্মনির্ভরতার মূল উদ্দেশ্য চীনকে বয়কট করা।

ব্যস, লোকজনও ধীরে ধীরে ইমোশনালি জুড়ে গিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সব চাইনিজ অ্যাপ থেকে শুরু করে বাড়িঘরের জিনিসপত্র পরিবর্তন করা শুরু করে দিল। বেশ ভালো কথা, এতে আর যাই হোক দেশে তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্রের মার্কেট ভ্যালু বাড়বে, মানুষ এগুলো সম্বন্ধেও জানতে পারবে।

কিন্তু আপনারা যদি ভেবে থাকেন চাইনিজ প্রোডাক্ট কেনা বন্ধ করে দিলেই সব হয়ে যাবে তাহলে কিছু তথ্য দেওয়া জরুরি…

## In 2014 investment by Chinese companies in India stood Rs 12000 Crore which has now grown 5 times to Rs 60000 Crore.

তাহলে বুঝতেই পারছেন ভারতীয় বাজার কতটা চাইনিজ প্রোডাক্টের ওপর নির্ভরশীল, রেকর্ড বলছে এটা আরও বাড়ছে আর খুব স্বাভাবিকও। করণ চীন এমন কিছু বানিয়েছে যেগুলোর অল্টারনেট এই মুহূর্তে বানানো অসম্ভব আর সেগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যেই পড়ে, সেগুলো ছাড়া আমরা অচল। সুতরাং সেক্ষেত্রে এটা সম্ভবও হবে না এখনই। সরকারের মুখে বলার জায়গায় সত্যিকারের অল্টারনেট বেরোনোর কাজ শুরু হলে ভাববেন দেশ সত্যি সত্যি এগোচ্ছে এই বয়কটের দিকে।

## It needs to be acknowledged that China’s exports to India account for only 2% of it’s total exports, so even if Indians boykott all the goods imported from China, it will not make as big an impact on China.

আমরা এতটা বেশি ইমপোর্ট করি চীন থেকে, সেখানে তাদের এক্সপোর্টের পার্সেন্টেজ মাত্র ২ শতাংশ। খুব একটা বড়সর ইমপ্যাক্ট পড়বে না হয়ত চীনের ওপর। আমাদের দেশের টোটাল ইমপোর্টের ২৮ শতাংশের ভাগীদার চীন (প্রতি বছরে)। এক্ষেত্রে আমাদের ওপর এটার অনেকটাই বাজে ইমপ্যাক্ট পড়বে যেটা এই ইকোনমিতে সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব বলা চলে।

## In 2017-18, imports (Total)

Electronics & Electrical requirements – 60%
Smartphone Market – 60%
Automobile Components – 30%
Toy Market – 90%
Bicycle Market – 50%
Thus, some of the key sectors of the Indian Economy are critically dependent on China.

২০১৭-১৮ এর সাথে এখনকার রেকর্ডের পার্থক্য তেমন কিছু হবে না বরং এখন আরও বেড়ে গেছে হয়ত।


—————————————————————————————

   *যে বা যারা এটার ব্যবহার আত্মনির্ভশীলতার ক্ষেত্রে করছে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাদের বলি, এভাবে মানুষকে বোকা বানানো ঠিক নয়। হ্যাঁ, নিজেদের দেশের তৈরি প্রোডাক্ট আমরা ব্যবহার করব এতে অবশ্যই আনন্দ হবে, গর্ববোধ হবে কিন্তু সেটার মত সিচুয়েশন এখন নেই।

কিছু না জেনেই অনেককিছু করে ফেলি বুঝে ফেলি আমরা, দরকার সচেতনতার এক্ষুনি। নাহলে এর থেকেও বড়ো কিছু ট্রেন্ড হয়ে নাচবে মাথার ওপর উঠে !


লেখায়
অভিরূপ

Leave a Comment