ব্যতিক্রমী মানুষজনের জায়গা এখানে অনেকটাই কম, আমরা তাদের ভিন্ন ভিন্ন নামে ডেকে থাকি। কেউবা পাগল বলে কেউ আবার বামপন্থী..!
আমার ক্ষেত্রে দ্বিতীয়টা লাগু হয়। যখন রাজনীতির র টাও বুঝতাম না তখন (২০১৫/২০১৬) কেউ বা কারও কথাবার্তায় বর্তমান সরকারকে ভালো এবং বাকি সবাইকে খারাপ মনে করতাম। সরকার যা করছে সব ভালোর জন্যই করছে এটা আমি মানতাম তখন। নোটবন্দী ডেকে আনল পরিবর্তন, আমার অসুবিধা হয়েছে পুরনো নোট নতুন করা বা তখন যা যা সমস্যা ছিল সেগুলো নিয়ে, কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যপার যেটা ঘটলো আমার জীবনে সেটা হল…
আমি বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে থাকতাম, গ্রামে থেকে পড়াশোনায় অসুবিধা হত বলে শহরে পড়াশোনা করেছি ক্লাস ১১ থেকে গ্র্যাজুয়েশন অব্দি। বাড়ি থেকে টাকা আসত ১২ অব্দি, সেসময় মেজর ইনকাম সোর্স ছিল আমার বাবা এবং আমাদের ওষুধের দোকান। মা আশাকর্মী তুলনামূলক বেতন সেরম নেই। তো বাবার ইনকামের ওপর নির্ভর করেই আমার পড়াশোনা চলছিল। নোটবন্দীর পর চোখের সামনে দোকানের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। বাধ্য হয়েই ওষুধ থেকে মুদিতে পরিবর্তিত হয় দোকান। ইনকাম, নেই..যারা জানেনা তাদের জন্য লিখছি, আপনি বড়লোক আপনি জানেননা মধ্যবিত্ত ও গরীব ফ্যামিলি কিভাবে স্ট্রাগল করেছে ওইসব দিনগুলোতে। আপনার জানার কথাও না ।
এরপর ধীরে ধীরে সরকারের কাজকর্মগুলো ভালোমত পর্যালোচনা এবং পর্যবেক্ষণ করেছি, পোষালোনা ঠিক !
একটা সরকার এত বেশি দুর্নীতিপরায়ণ কিভাবে হতে পারে !! আমি পুরোপুরি ফেইন্ট হয়ে গেলাম এসব দেখে। বাড়িতে বাবাকে এসব বোঝালে বাবা বলে সমস্ত রাজ্য সরকারের দোষ, আমি মানছি রাজ্য সরকারও খুব ভালো তা নয়, কিন্তু এক্ষেত্রে মানুষকে এত বেশি ভুল বোঝানো হয়েছে কিছু বলার ছিলনা আমার। তখনই আমি বিরোধিতা শুরু করি, কলেজে ছাত্র পরিষদ (তৃণমূল) ভেবেছিলাম এভাবেই শুরুটা হোক, পরে বুঝলাম অনেক বেশি ঝামেলা ওদের নিজেদের মধ্যেই তাই ওখানে সম্ভব না। নিজের থেকেই কিছু করতে হবে, মার্ক্স পড়তে বলেছিল তখন একজন। পড়লাম, জানলাম অনেক কিছু, কিন্তু তখনও মার্ক্স আমার কেউনা বা লেনিনও আমাকে কোনোভাবে অনুপ্রাণিত করেনি তখনও।
আমি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বলতে শুরু করলাম, রাজ্য সরকারকে ক্রীটিসাইজ করতে শুরু করলাম। মানুষজন আমায় বামপন্থী বানিয়ে দিল, বিরোধী দল আমায় দেশদ্রোহী বানিয়ে দিল।
তখন বুঝলাম বামপন্থা আর সমাজবাদ কী, তাদের ক্ষমতা কতটা। চে গুয়েভারা, ফিদেল কাস্ত্রোর গল্প, ভগৎ সিং বা মাস্টারদা সূর্য সেন এবং নেতাজীর জীবন নিয়ে ঘাটাঘাটি করে বুঝলাম এভাবেই বামপন্থা মানুষের মধ্যে বিরাজমান। লেনিন শেষ মেষ আমায় অনুপ্রাণিত করেই ফেলল, মার্ক্স বোঝালো ক্যাপিটালিজমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর একটা সংঘবদ্ধ পদ্ধতি।
আমি ফাইনালি মন থেকে বামপন্থাকে সমর্থন করা শুরু করলাম…
বামপন্থী হওয়া যদি দেশদ্রোহিতার স্বরূপ হয় তাহলে আমি দেশদ্রোহী।
দেশকে আমি আমার নজরে দেখি। বটম লাইন থেকে আপার লাইন অব্দি খুঁটিয়ে দেখি, সেসবকে রাজনীতিকরণ করার বিপক্ষে আমি।
লেখায় অভিরূপ