“My Story of Being a Communist”

ব্যতিক্রমী মানুষজনের জায়গা এখানে অনেকটাই কম, আমরা তাদের ভিন্ন ভিন্ন নামে ডেকে থাকি। কেউবা পাগল বলে কেউ আবার বামপন্থী..!

আমার ক্ষেত্রে দ্বিতীয়টা লাগু হয়। যখন রাজনীতির র টাও বুঝতাম না তখন (২০১৫/২০১৬) কেউ বা কারও কথাবার্তায় বর্তমান সরকারকে ভালো এবং বাকি সবাইকে খারাপ মনে করতাম। সরকার যা করছে সব ভালোর জন্যই করছে এটা আমি মানতাম তখন। নোটবন্দী ডেকে আনল পরিবর্তন, আমার অসুবিধা হয়েছে পুরনো নোট নতুন করা বা তখন যা যা সমস্যা ছিল সেগুলো নিয়ে, কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যপার যেটা ঘটলো আমার জীবনে সেটা হল…
আমি বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে থাকতাম, গ্রামে থেকে পড়াশোনায় অসুবিধা হত বলে শহরে পড়াশোনা করেছি ক্লাস ১১ থেকে গ্র্যাজুয়েশন অব্দি। বাড়ি থেকে টাকা আসত ১২ অব্দি, সেসময় মেজর ইনকাম সোর্স ছিল আমার বাবা এবং আমাদের ওষুধের দোকান। মা আশাকর্মী তুলনামূলক বেতন সেরম নেই। তো বাবার ইনকামের ওপর নির্ভর করেই আমার পড়াশোনা চলছিল। নোটবন্দীর পর চোখের সামনে দোকানের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। বাধ্য হয়েই ওষুধ থেকে মুদিতে পরিবর্তিত হয় দোকান। ইনকাম, নেই..যারা জানেনা তাদের জন্য লিখছি, আপনি বড়লোক আপনি জানেননা মধ্যবিত্ত ও গরীব ফ্যামিলি কিভাবে স্ট্রাগল করেছে ওইসব দিনগুলোতে। আপনার জানার কথাও না ।
এরপর ধীরে ধীরে সরকারের কাজকর্মগুলো ভালোমত পর্যালোচনা এবং পর্যবেক্ষণ করেছি, পোষালোনা ঠিক !
একটা সরকার এত বেশি দুর্নীতিপরায়ণ কিভাবে হতে পারে !! আমি পুরোপুরি ফেইন্ট হয়ে গেলাম এসব দেখে। বাড়িতে বাবাকে এসব বোঝালে বাবা বলে সমস্ত রাজ্য সরকারের দোষ, আমি মানছি রাজ্য সরকারও খুব ভালো তা নয়, কিন্তু এক্ষেত্রে মানুষকে এত বেশি ভুল বোঝানো হয়েছে কিছু বলার ছিলনা আমার। তখনই আমি বিরোধিতা শুরু করি, কলেজে ছাত্র পরিষদ (তৃণমূল) ভেবেছিলাম এভাবেই শুরুটা হোক, পরে বুঝলাম অনেক বেশি ঝামেলা ওদের নিজেদের মধ্যেই তাই ওখানে সম্ভব না। নিজের থেকেই কিছু করতে হবে, মার্ক্স পড়তে বলেছিল তখন একজন। পড়লাম, জানলাম অনেক কিছু, কিন্তু তখনও মার্ক্স আমার কেউনা বা লেনিনও আমাকে কোনোভাবে অনুপ্রাণিত করেনি তখনও।
আমি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বলতে শুরু করলাম, রাজ্য সরকারকে ক্রীটিসাইজ করতে শুরু করলাম। মানুষজন আমায় বামপন্থী বানিয়ে দিল, বিরোধী দল আমায় দেশদ্রোহী বানিয়ে দিল।
তখন বুঝলাম বামপন্থা আর সমাজবাদ কী, তাদের ক্ষমতা কতটা। চে গুয়েভারা, ফিদেল কাস্ত্রোর গল্প, ভগৎ সিং বা মাস্টারদা সূর্য সেন এবং নেতাজীর জীবন নিয়ে ঘাটাঘাটি করে বুঝলাম এভাবেই বামপন্থা মানুষের মধ্যে বিরাজমান। লেনিন শেষ মেষ আমায় অনুপ্রাণিত করেই ফেলল, মার্ক্স বোঝালো ক্যাপিটালিজমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর একটা সংঘবদ্ধ পদ্ধতি।
আমি ফাইনালি মন থেকে বামপন্থাকে সমর্থন করা শুরু করলাম…

বামপন্থী হওয়া যদি দেশদ্রোহিতার স্বরূপ হয় তাহলে আমি দেশদ্রোহী।
দেশকে আমি আমার নজরে দেখি। বটম লাইন থেকে আপার লাইন অব্দি খুঁটিয়ে দেখি, সেসবকে রাজনীতিকরণ করার বিপক্ষে আমি।

‌লেখায় অভিরূপ

“Facebook & TikTok Chronology”

CHRONOLOGY বোঝাচ্ছি, বুঝবেন দয়া করে…

বেশ কিছুদিন আগে অনেকগুলো চাইনিজ অ্যাপ ব্যান করা হয় সরকার দ্বারা, ভালো করেছে। চীনকে শাস্তি দিতে এরকম উদ্যোগ কতটা সঠিক জানিনা তবে অন্যান্য দিক দিয়ে দেখলে কিছু কিছু অ্যাপের ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে সেগুলো ব্যান হওয়া উচিত ছিল। টিকটকের নাম সবার আগে আসবে এক্ষেত্রে..
তারপর বেশ কিছুদিন কেটে গেল, ইনস্টাগ্রামে যারা আছেন তারা ভালো করেই জানেন সেখানে ইনস্টাগ্রাম রিলস্ বলে একটা ওই ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও বানানোর/আপলোড করার জায়গা এসেছে। খুব ভালো কথা, ইনস্টাগ্রাম তো চাইনিজ নয় মেনে নেওয়াই যায়। প্রসঙ্গত বলে রাখি ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটস্অ্যাপ এদের মালিক আর ফেসবুকের মালিক একটা লোকই।
তারও কিছুদিন পরে দেখলাম ফেসবুকেও তাই হচ্ছে, সেই ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও বা তার কিছুটা বেশি, সেরকম ভিডিও বানানো এবং আপলোড করা যাচ্ছে।
এগুলো ছিল ঘটনা, এবার বোঝাই…

কদিন আগেই একটা আর্টিকেল সারা বিশ্বে প্রচণ্ড উথাল পাতাল এনে দিয়েছিল (ইন্ডিয়ান মিডিয়া শুধু জানেনা ব্যপারটা), ‘Wall Street Journal’ এর একটা আর্টিকেলে বলা হয়েছিল কিভাবে ফেসবুকও চাটনদারির মাধ্যমে ভারতে নিজেদের ব্যবসা করে যাচ্ছে বিগত কয়েক দশক ধরে। কিভাবে হেট স্পিচের বিরুদ্ধে তারা কোনো অ্যাকশন নেয়না, সরকারকে খুশি রাখতে চায় সবসময়। আরও অনেক কিছু রয়েছে সেই আর্টিকেলে।
এবার আপনি ভাবুন আমি আপনাকে সবসময় খুশ রাখব আপনি ব্যবসা করবেন, আপনি আমাকে যা ট্যাক্স দিচ্ছেন তার বদলে তো আমারও কিছু করণীয় থাকবে। সঠিক সুযোগ বুঝে টিকটিক ব্যান করে ফেসবুককে মাঠে নামিয়ে দেওয়াটা খুব সুন্দরভাবে দেশগঠনের কাজে লাগিয়ে দিল এনারা। আমি আপনি আমরা ভাবলাম চাইনা বয়কট।

‌ক্যাপিটালিজম এটাই, মুকেশ আম্বানি ব্যবসা করে বড়লোক হতে থাকবে, জুকারবার্গ নিজের ব্যবসা আরও শক্ত করবে। গরীব, মধ্যবিত্তরা কী করছে যায় আসেনা…যে বা যারা পার্টি ফান্ডে টাকা ঢালবে তারা সবাই ভালো, তাদের সুযোগ করে দেওয়া পার্টি তথা সরকারের কর্তব্য হয়ে যায় তখন !!

সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত
লেখায় – অভিরূপ

ধন্যবাদ

বিপক্ষ

আমি বিপক্ষে, আমি প্রথমেই বলে দিচ্ছি শাসকদলের বিপক্ষে আমি কথা বলে এসেছি এখনও তাই বলছি।
বিগত বেশ কিছুদিন ধরে কিছু কিছু মানুষের মেসেজ এবং ফোন করে আমাকে হুশিয়ারি দেওয়াটা ডেমোক্রেসির অঙ্গই মনে হয়, জানিনা ঠিক। শুধু আমি লিখছি বলে শুধু আমিই না, আরও অনেকে আছেন যাদের কাছে এইরূপ থ্রেট কল এসেছে, তারা হয়ত চুপ থেকেছেন নয়ত খবরগুলো পাবলিক করেননি। বিপক্ষে দাঁড়িয়ে বিরোধিতা করছি, যদি তুমি বল রাষ্ট্রের সমস্ত কথা আমায় শুনতে হবে নইলে আমি দেশদ্রোহী তবে আমি তাই, অত্যন্ত প্রিয় কিছু মানুষদের সাথে রাজনৈতিক তর্কে জড়িয়ে যাওয়ার পরেরদিনই বুঝে গেছিলাম এরকম আরো দিন আসবে, সেগুলোর জন্য তৈরি থাকতে হবে। ছাত্রদের সাথে আজ যেগুলো হয় সেগুলোকে নোংরা বলা চলে না, অপরাধের আরেক রূপ বললে বেশি ভালো হয়। তারা বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বললে তারা সমাজবিরোধী !
গান্ধীজি বলুন আর নেতাজীই বলুন, কেউই এরকম একটা দেশের কল্পনা করেননি। তারা সুন্দর একটা সমাজ একটা দেশের কল্পনা করেছিলেন। রামমন্দির নিয়ে কিংবা প্যান্ডেমিকে রাজনীতি, এটা কোন সমাজে বাস করছি আমরা ! আরও উদাহরণ দিচ্ছি, অনেক অবলা জীব আমাদের আশেপাশে সর্বদা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি, আপনি সেখানেও রাজনীতি ঢুকিয়ে দিলাম। হায়রে চিন্তাধারা !
মত, নীতি চেঞ্জ করা দরকার। ভালোবাসতে শিখুন মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীদের, রাজনীতি পরে করলেও হবে হয়ত। সেগুলোকে মুদ্দা বানিয়ে ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করার কোনো মানেই হয়না। এরকম এজেন্ডা চলার একটাই কারণ, কেননা আর কিছু হয়নি পাঁচ বছরে তাই এগুলোর ভিত্তিতে ভোট হবে। বিরোধীপক্ষ অনেক ক্ষেত্রেই ভুলভাল বলে থাকেন, কিন্তু যেগুলো ঠিক সেগুলো নিয়ে শাসকদল উদাসীন। ভুলগুলো নিয়ে খিল্লি করবেন করুন, আলু আর সোনার সম্পর্ক দেখতে চায়না কেউই; মানুষ এবং নেতার সম্পর্ক নিয়ে সবার কৌতুহল, এটা নিয়ে কথা বলুন। আপনারা শুধু খিল্লি করবেন উত্তর দেবেন না তা তো হয়না !
রাষ্ট্রের কিছু কিছু কাজকর্মের বিরোধিতা মানে দেশের বিরোধিতা এটা কেমন লজিক! ধরুন আজ আপনার বাড়িতে আপনার বাবাই একমাত্র সোর্স অফ্ ইনকাম, আপনি ছাত্র/ছাত্রী। বাবা একদিন মাছ নিয়ে এল বাজার থেকে দুপুরে মাছ দিয়ে ভাত খাবেন বলে কিন্তু সেদিন বাড়ির বাকি সদস্যরা নিরামিষ খেতে চেয়েছিলেন, কেননা রাতে নেমন্তন্ন রয়েছে সেখানে খাওয়া দাওয়া রিচ থাকবে প্রচণ্ড। এবার আপনারা সবাই মিলে বাবাকে বললেন বাবা আমরা নিরামিষ খাব, মাছ খাবোনা তারপর এটা শুনে আপনার বাবা আপনাদের বাড়ি থেকে বের করে দিবে ! অবশ্যই না, এটাই হল আসল ব্যপার। বিপক্ষে কথা বলা মানেই “না পোষালে পাকিস্তানে চলে যাও” ধারণা একেবারেই যুক্তিসঙ্গত নয় এটা জেনে রাখতে হবে আমাদের। আর এত বেশি হিংসাত্মক চিন্তাধারা এখন আমাদের মধ্যে বিরাজ করে এটার তো তুলনাই হয়না। মারমুখী হয়ে উঠেছি আমরা ক্রমাগত, এটা একেবারেই কাম্য নয়।

আমরা মানুষ। হিংসা, ভালোবাসা, বিচার, বুদ্ধির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটা জাত; আমরা হিংসা করতে পারি কিন্তু তার ক্ষতির কথা চিন্তা করব কেন। আমরা কারও কাজের ভিত্তিতে তাকে ভালোওবাসতে পারি কিন্তু সেটা চোখ বন্ধ করে কেন করব। আমি আপনি অবশ্যই বিচার বিবেচনা করব এগুলো নিয়ে, আমরা এটাই বন্ধ করে দিচ্ছি ক্রমাগত। ভিড়ের বিপরীতে যারা যাওয়ার চেষ্টা করছে তারা কেন এরকম একটা কঠিন রাস্তায় পা দিয়েছে সেটা জানার চেষ্টা কর, তাদের দমিয়ে দিও না।
যারা বিপক্ষে রয়েছেন তাদের জন্য অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে সবসময়, এটা সবক্ষেত্রে নাও থাকতে পারে তবে রাষ্ট্রের বিরোধিতা করার সাহস এখনকার দিনে সেভাবে দেখা যায়না তাই শ্রদ্ধাটা অনেকটাই বেশি । আশা করব আগামীদিন সুন্দর হবে ।।

লেখায় অভিরূপ

নমস্কার

দেশ ও আমরা

* কেন আমি রাজনীতি নিয়ে ভাববো?
* কিসের ভিত্তিতে কোনো রাজনৈতিক দলকে আমি পছন্দ করব?
* আমি কী ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করব?
* স্বাধীন চিন্তাভাবনা করতে পারব?
* আমিও তাদের মতই তৈরি হব না তো?

> আমি কে, আমি কোন পরিবারের ছেলে/মেয়ে, আমি কোন জাতির মানুষ এসবের উত্তর হয়ত এককথায় বা একলাইনে দিয়ে দেওয়া যায়। আমি জানি আমার ক্ষমতা কতটা আর্থিক দিক দিয়ে, আমি জানি আমি হিন্দু/মুসলিম/অন্যান্য কিছু। কিন্তু আমি আদৌ মানুষ কিনা সেটা পরখ করা হয়না অনেকেরই। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে সেকুলার বলে চ্যাঁচানো লোকজন এক মুসলিম বাড়িতে গিয়ে খেতে পারেনা, তাকে নিজের ঘরে ঢুকতে দিতে দ্বিধা বোধ করে। মানুষ অনেক বেশি শোঅফ্ করতে শিখে গেছে বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে। উদাহরণ চোখের সামনেই আছে। ভারতীয় রাজনৈতিক ইতিহাসে তোষণনীতি যুগে যুগে মানুষকে পঙ্গু করেছে। রাজনীতি নিয়ে ভাবার কারণ শুধু একটা সুন্দর সমাজ গড়ে তোলাই না, তার পাশাপাশি দেশকে দেশের মানুষের মতো করে গড়ে তোলা। একজন ছাত্র বা ছাত্রী অনেকটাই ছোট, তার বিচারবুদ্ধিও কম তুলনামূলক কিন্তু সেও ভাবছে, সেও রাজনৈতিক মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হচ্ছে। তুমি যদি ভাবো আজকে রাষ্ট্র সবসময় ঠিক সব ক্ষেত্রে ঠিক তাহলে তোমারও ভাবা দরকার, তুমি যদি ভাবো রাষ্ট্র সবদিক দিয়েই ভুল তাহলেও তোমার চিন্তাধারা নিয়ে ভাবা দরকার।

> আমি কাজের ভিত্তিতে কোনো রাজনৈতিক দলকে পছন্দ করার পক্ষে ঠিকই কিন্তু সেখানেও কিছু ভাওতা আমরা সবসময় খেয়ে এসেছি। বাংলার মানুষ খুব ভালো ভাবে জানেন সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের ঘটনা। যাই হোক, আমার মনে হয় কাজের পাশাপাশি মানুষগুলোকে মূল্যায়ণ করা জরুরি। একটা দলের সব নেতা মন্ত্রীরা যেমন ভালো হয়না তেমন খারাপও হয়না। তাই সঠিক মূল্যায়ণ করে এবং তাদের কার্যকলাপের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করাটা একান্ত জরুরি। আমি আপনি শুধুমাত্র ভোটার নই এটাই মাথায় রাখবেন। আইডিওলজি সব ক্ষেত্রে কার্যকরী হয়না, মাঝে মধ্যে মানুষের জন্য কথা বলা একটা সাধারণ নির্দল দলকেও আমরা ভালোবাসতে পারি। স্বার্থ সবাই রক্ষা করে, আমি আপনি বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিআইএম সব্বাই। তার মানে এই নয় আপনি একটা মুখের ভিত্তিতে ভোট দিয়ে চলে আসলেন। মূল্যায়ণ করুন আর্থ সামাজিক অবস্থার কথা ভাবুন দেশের, আচ্ছা আপনি নিজের এলাকার কথাই ভেবে দেখুন। সেখানকার পরিস্থিতি কী, কে দায়িত্বে আছেন সব ভেবে তারপর ভোট দেবেন বা সেই দলের হয়ে কথা বলবেন। মানুষে দল বানায়, দল কিন্তু মানুষ বানানো বন্ধ করে দিয়েছে কয়েক দশক আগেই !

> ধর্মের রাজনীতির ওপর কোনোদিনই আস্থা ছিলনা, আসবেও না। ধর্ম মানুষকে একটা গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করে দেয় এটা আমার ধারণা। খুব ভালোভাবে দেখলে দেখা যাবে ধর্ম ঠাকুর দেবতাদের সৃষ্টি করেছে। আমি একজন হিন্দু, আমি আমার ধর্মচর্চা করছি আগেই বলে রাখলাম। বাবা লোকনাথ মর্তে এসেছিলেন, খুব ভালো কথা; এবারে ধর্ম বলছে একজন মানুষ এটা এটা এটা করলে তিনি ভগবানতুল্য। তারপর অস্বাভাবিকভাবে বাবা লোকনাথের কার্যকলাপ ধর্মের লেখাগুলোর সাথে মিলে যায় এবং তিনি ভগবানরূপে পুজ্জিত হতে থাকেন। তিনি কিন্তু সেটা আদতেও চাননি, তিনি চেয়েছিলেন মানুষের পাশে থাকতে মানুষের সাহায্য করতে, ভগবান হতে চাননি তিনি কখনোই। আমরা মানুষরা তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে এই জায়গায় বসিয়ে দেই নিজেদের স্বার্থে। এরপর দুটো প্রধান সংস্কৃতি হিন্দু মুসলিম, এদের বিবাদ বাধে। অনেককাল ধরে হয়ে আসা দাঙ্গা আজও কোথাও না কোথাও হয়েই চলেছে, মনে মনে হয়ত আমি আপনিও ভাবি কী লাভ এসবের তবুও ভাবি। অনেকে সেটাই বন্ধ করে দিয়েছে। রাজনীতি শব্দটার অর্থ খুবই ভিন্ন এবং সেটা ধর্মেরও ওপরে হয়ত। ধর্ম রাজনীতির সাথে জুড়ে দেওয়াটা মেনে নেওয়া মানে নিজের বাড়িতে তালা খুলে চোরকে আসতে দেওয়া। ধর্ম রাজনীতি দুটো সম্পূর্ণ পৃথক রাস্তা, এদের জুড়ে দেওয়া কখনোই ঠিক না।

> না, প্রাক্টিক্যালি যদি জানতে চাও তবে সত্যি হয়ত ভাবতে পারবে না। ভাবলেও কাউকে বলতে পারবে না, তোমার দলের বিরুদ্ধে বলতে গেলে তুমি অপসারিত হয়ে যেতে পারো, অন্য দলের লোকের বিরুদ্ধে বলতে গেলে তুমি খুনও হয়ে যেতে পারো।
তাও তুমি ভাবো, স্বাধীনভাবেই ভাবো। কারও ক্ষতি করে নয়, কারও ভালোর জন্য ভাবো। দেশের গরীবের জন্য ভাবো। রাজনীতি তোমাকে সাহায্য করবে, রাজনীতিটা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। আজ আমি তুমি আমরা সবাই মিলে যদি ভাবি, ভাবনা চিন্তার মাধ্যমে একটা সমাজ একটা সিস্টেম গড়ে তুলি তাহলে সেটা অনেক বেশি সুন্দর এবং অনেক বেশি মানবদরদী হবে, মানুষও পাশে দাঁড়াবে। আজ বিরোধিতা, স্বাধীন চেতনার বিলুপ্তির কারণ এই রাজনৈতিক ভয় ও রাজনীতির ব্যর্থতা। আগামী প্রজন্মের দায়িত্ত্ব থাকছে এটাকে সুন্দর করার এবং সফল করার।

> আমি প্রলোভনে পা দেবনা কথাটা মেইনটেন করা যেমন কঠিন তেমনই অসম্ভব। রাজনীতিতে থাকতে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই অনেক ভুল কাজ করতে হয় তবে ক্ষতি যদি কারো করেই থাক তবে তার সাহায্যও করে দিও কখনও। রাষ্ট্র তোমাকে অপরাধী বানাবে তোমাকে নিজে থেকেই সচেতন থাকতে হবে, তোমাকে নিজে থেকেই মানুষকে ভালোবাসতে হবে। তুমি অন্যের মত না এটা মাথায় রেখে চলতে হবে। আমি তুমি আমরা তুলনামূলকভাবে বেশি শিক্ষিত সব দিক থেকেই। আমরা মানুষের সুখ দুঃখের নিবারণ করতে পারব। ক্ষমতায় আসীন হয়েও নিজের ভালো থাকার জায়গাটা তাদের দিয়ে দেওয়া একজন সাধারণ নেতার দায়িত্ব ও কর্তব্য। কর্মসংস্থান যেমন তোমার দায়িত্ত্ব তেমনই মানুষের প্রতিনিধিত্ব করাও তোমার দায়িত্ব। ক্ষমতা না পেলেও ভালো কাজের শেষ নেই, কাজ করতে থাক নিজের লাভের কথা বাদ রেখে।
দিনের শেষে ঘুমটা তৃপ্তির হবে, আশ্বাস দিলাম 🙂

লেখায়,
আমি অভিরূপ

ধন্যবাদ

ভাষাবৈচিত্র্য না বৈষম্য

আমার কন্ট্যাক্ট-এ থাকা বেশ কিছু মানুষ সাউথ বেঙ্গলের এবং তাদের মধ্যে অনেকের হাব ভাব, আচার বিচার দেখে কিছু কথা লেখার ইচ্ছে হল (সবার জন্য না এটা, গায়ে মাখবেন না) ।
আমরা নর্থ বেঙ্গলের মানুষজন, ছোটবেলা থেকে কিছু কিছু শব্দ আছে যেগুলোর উচ্চারণে “এ” কার এর জায়গায় “আ” কার ব্যবহার করে এসেছি। যেমন – খাবা, যাবা ইত্যাদি। এটাই আমাদের প্রচলিত ভাষা। বাংলা ভাষার এক উপভাষা নাম কামরুপী উপভাষা, সাউথে হয়ত এর প্রচলন নেই সেভাবে ওখানে সেই রাড়ী উপভাষারই চল বেশি। অবশ্যই পার্থক্য রয়েছে শুনতে অন্যরকম লাগবেই, স্বাভাবিক ব্যপার। কিন্তু এই ভাষাবৈচিত্র্য বৈষম্যতে পরিণত হওয়ার ব্যপারটা ঠিক মেনে নেওয়া যায়না।
সাউথের ভাষা শিক্ষিতদের ভাষা, আমাদেরটা অশিক্ষিতদের। এই বৈষম্য সৃষ্টি কার দ্বারা কীভাবে হয়েছে কে জানে, কিন্তু এটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বেশ কিছু মানুষ। হয়ত আমরা আপনাদের ভাষার প্রতি বেশি সম্মান প্রদান করে এসেছি এতদিন ধরে যার দরুণ আজ এই পরিণতি। তাছাড়া এই বৈষম্য সৃষ্টি হবেই বা কী করে !
কৃষ্ণাঙ্গ শ্বেতাঙ্গ, হিন্দু মুসলিম ইত্যাদি বিষয়ে হামেশাই গলা তুলতে দেখেছি মানুষজনকে, একটু এইদিক দিয়েও ভেবে দেখা উচিৎ। আমরা বাঙালি, আমরা অনেককিছু নিয়ে গর্ববোধ করি কিন্তু এই ভাষার বৈষম্য অনেকটাই বিচ্ছেদ করে দিয়েছে নর্থ বেঙ্গলকে সাউথ থেকে।

হাসাহাসি করবেন করুন, খালি মনে রাখবেন ভাষার জন্য কিন্তু অনেকে রক্ত দিয়েছিল একসময়।

আমি এটাও বলে দিচ্ছি, আগে কলকাতার প্রতি একটা অন্যরকম ধারণা ছিল। এখন যেটা তৈরি হয়েছে সেটা হল, আপনাদের বেশিরভাগ লোকের বুদ্ধি কুয়োর ব্যাঙের মত এবং আপনারা বেশিরভাগই মানুষকে ছোট করতে ভালোবাসেন যদিও সবাই না।
আমি নর্থের ছেলে, আমার উপভাষাগুলোর ওপর আমি গর্ববোধ করি।

[মনে আঘাত দিয়ে থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী, আমারও আঘাত লেগেছিল তাই আমিও টাইপিং করছি]

লেখায়,
অভিরূপ

বয়কট / আত্মনির্ভরতা

ভারতীয়দের আত্মনির্ভরতার মিনিংটা ঠিক মাথায় ঢোকে না কখনোই। আমি ক্রিটিক্সদের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা একজন ঠিকই কিন্তু ‘ভোকাল ফর লোকাল’ কথাটা মিথ্যে আত্মির্ভরশীলতার আড়ালে এভাবে মিলিয়ে গেল এটাই বিশাল ব্যপার। মিথ্যে কেন সেটা বলছি ধীরে ধীরে। বয়কট চীনের থেকেও বেশি দরকারি এবং বেশি এফোর্ট দেওয়া উচিত ছিল গরীব মানুষ যারা এখন খেতে পারছে না ঠিকমত দুবেলা তাদের জন্য কিছু করা। আমাদের প্রাইম মিনিস্টার বলেও দিলেন ওই টার্মটা, ভোকাল ফর লোকাল কিন্তু ঐযে আবার সেই টাকার খেলা শুরু, বিভিন্ন বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা রাতদিন এক করে আবিষ্কার করলেন আত্মনির্ভরতার মূল উদ্দেশ্য চীনকে বয়কট করা।

ব্যস, লোকজনও ধীরে ধীরে ইমোশনালি জুড়ে গিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সব চাইনিজ অ্যাপ থেকে শুরু করে বাড়িঘরের জিনিসপত্র পরিবর্তন করা শুরু করে দিল। বেশ ভালো কথা, এতে আর যাই হোক দেশে তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্রের মার্কেট ভ্যালু বাড়বে, মানুষ এগুলো সম্বন্ধেও জানতে পারবে।

কিন্তু আপনারা যদি ভেবে থাকেন চাইনিজ প্রোডাক্ট কেনা বন্ধ করে দিলেই সব হয়ে যাবে তাহলে কিছু তথ্য দেওয়া জরুরি…

## In 2014 investment by Chinese companies in India stood Rs 12000 Crore which has now grown 5 times to Rs 60000 Crore.

তাহলে বুঝতেই পারছেন ভারতীয় বাজার কতটা চাইনিজ প্রোডাক্টের ওপর নির্ভরশীল, রেকর্ড বলছে এটা আরও বাড়ছে আর খুব স্বাভাবিকও। করণ চীন এমন কিছু বানিয়েছে যেগুলোর অল্টারনেট এই মুহূর্তে বানানো অসম্ভব আর সেগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যেই পড়ে, সেগুলো ছাড়া আমরা অচল। সুতরাং সেক্ষেত্রে এটা সম্ভবও হবে না এখনই। সরকারের মুখে বলার জায়গায় সত্যিকারের অল্টারনেট বেরোনোর কাজ শুরু হলে ভাববেন দেশ সত্যি সত্যি এগোচ্ছে এই বয়কটের দিকে।

## It needs to be acknowledged that China’s exports to India account for only 2% of it’s total exports, so even if Indians boykott all the goods imported from China, it will not make as big an impact on China.

আমরা এতটা বেশি ইমপোর্ট করি চীন থেকে, সেখানে তাদের এক্সপোর্টের পার্সেন্টেজ মাত্র ২ শতাংশ। খুব একটা বড়সর ইমপ্যাক্ট পড়বে না হয়ত চীনের ওপর। আমাদের দেশের টোটাল ইমপোর্টের ২৮ শতাংশের ভাগীদার চীন (প্রতি বছরে)। এক্ষেত্রে আমাদের ওপর এটার অনেকটাই বাজে ইমপ্যাক্ট পড়বে যেটা এই ইকোনমিতে সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব বলা চলে।

## In 2017-18, imports (Total)

Electronics & Electrical requirements – 60%
Smartphone Market – 60%
Automobile Components – 30%
Toy Market – 90%
Bicycle Market – 50%
Thus, some of the key sectors of the Indian Economy are critically dependent on China.

২০১৭-১৮ এর সাথে এখনকার রেকর্ডের পার্থক্য তেমন কিছু হবে না বরং এখন আরও বেড়ে গেছে হয়ত।


—————————————————————————————

   *যে বা যারা এটার ব্যবহার আত্মনির্ভশীলতার ক্ষেত্রে করছে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাদের বলি, এভাবে মানুষকে বোকা বানানো ঠিক নয়। হ্যাঁ, নিজেদের দেশের তৈরি প্রোডাক্ট আমরা ব্যবহার করব এতে অবশ্যই আনন্দ হবে, গর্ববোধ হবে কিন্তু সেটার মত সিচুয়েশন এখন নেই।

কিছু না জেনেই অনেককিছু করে ফেলি বুঝে ফেলি আমরা, দরকার সচেতনতার এক্ষুনি। নাহলে এর থেকেও বড়ো কিছু ট্রেন্ড হয়ে নাচবে মাথার ওপর উঠে !


লেখায়
অভিরূপ