দেশ ও আমরা

* কেন আমি রাজনীতি নিয়ে ভাববো?
* কিসের ভিত্তিতে কোনো রাজনৈতিক দলকে আমি পছন্দ করব?
* আমি কী ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করব?
* স্বাধীন চিন্তাভাবনা করতে পারব?
* আমিও তাদের মতই তৈরি হব না তো?

> আমি কে, আমি কোন পরিবারের ছেলে/মেয়ে, আমি কোন জাতির মানুষ এসবের উত্তর হয়ত এককথায় বা একলাইনে দিয়ে দেওয়া যায়। আমি জানি আমার ক্ষমতা কতটা আর্থিক দিক দিয়ে, আমি জানি আমি হিন্দু/মুসলিম/অন্যান্য কিছু। কিন্তু আমি আদৌ মানুষ কিনা সেটা পরখ করা হয়না অনেকেরই। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে সেকুলার বলে চ্যাঁচানো লোকজন এক মুসলিম বাড়িতে গিয়ে খেতে পারেনা, তাকে নিজের ঘরে ঢুকতে দিতে দ্বিধা বোধ করে। মানুষ অনেক বেশি শোঅফ্ করতে শিখে গেছে বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে। উদাহরণ চোখের সামনেই আছে। ভারতীয় রাজনৈতিক ইতিহাসে তোষণনীতি যুগে যুগে মানুষকে পঙ্গু করেছে। রাজনীতি নিয়ে ভাবার কারণ শুধু একটা সুন্দর সমাজ গড়ে তোলাই না, তার পাশাপাশি দেশকে দেশের মানুষের মতো করে গড়ে তোলা। একজন ছাত্র বা ছাত্রী অনেকটাই ছোট, তার বিচারবুদ্ধিও কম তুলনামূলক কিন্তু সেও ভাবছে, সেও রাজনৈতিক মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হচ্ছে। তুমি যদি ভাবো আজকে রাষ্ট্র সবসময় ঠিক সব ক্ষেত্রে ঠিক তাহলে তোমারও ভাবা দরকার, তুমি যদি ভাবো রাষ্ট্র সবদিক দিয়েই ভুল তাহলেও তোমার চিন্তাধারা নিয়ে ভাবা দরকার।

> আমি কাজের ভিত্তিতে কোনো রাজনৈতিক দলকে পছন্দ করার পক্ষে ঠিকই কিন্তু সেখানেও কিছু ভাওতা আমরা সবসময় খেয়ে এসেছি। বাংলার মানুষ খুব ভালো ভাবে জানেন সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের ঘটনা। যাই হোক, আমার মনে হয় কাজের পাশাপাশি মানুষগুলোকে মূল্যায়ণ করা জরুরি। একটা দলের সব নেতা মন্ত্রীরা যেমন ভালো হয়না তেমন খারাপও হয়না। তাই সঠিক মূল্যায়ণ করে এবং তাদের কার্যকলাপের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করাটা একান্ত জরুরি। আমি আপনি শুধুমাত্র ভোটার নই এটাই মাথায় রাখবেন। আইডিওলজি সব ক্ষেত্রে কার্যকরী হয়না, মাঝে মধ্যে মানুষের জন্য কথা বলা একটা সাধারণ নির্দল দলকেও আমরা ভালোবাসতে পারি। স্বার্থ সবাই রক্ষা করে, আমি আপনি বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিআইএম সব্বাই। তার মানে এই নয় আপনি একটা মুখের ভিত্তিতে ভোট দিয়ে চলে আসলেন। মূল্যায়ণ করুন আর্থ সামাজিক অবস্থার কথা ভাবুন দেশের, আচ্ছা আপনি নিজের এলাকার কথাই ভেবে দেখুন। সেখানকার পরিস্থিতি কী, কে দায়িত্বে আছেন সব ভেবে তারপর ভোট দেবেন বা সেই দলের হয়ে কথা বলবেন। মানুষে দল বানায়, দল কিন্তু মানুষ বানানো বন্ধ করে দিয়েছে কয়েক দশক আগেই !

> ধর্মের রাজনীতির ওপর কোনোদিনই আস্থা ছিলনা, আসবেও না। ধর্ম মানুষকে একটা গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করে দেয় এটা আমার ধারণা। খুব ভালোভাবে দেখলে দেখা যাবে ধর্ম ঠাকুর দেবতাদের সৃষ্টি করেছে। আমি একজন হিন্দু, আমি আমার ধর্মচর্চা করছি আগেই বলে রাখলাম। বাবা লোকনাথ মর্তে এসেছিলেন, খুব ভালো কথা; এবারে ধর্ম বলছে একজন মানুষ এটা এটা এটা করলে তিনি ভগবানতুল্য। তারপর অস্বাভাবিকভাবে বাবা লোকনাথের কার্যকলাপ ধর্মের লেখাগুলোর সাথে মিলে যায় এবং তিনি ভগবানরূপে পুজ্জিত হতে থাকেন। তিনি কিন্তু সেটা আদতেও চাননি, তিনি চেয়েছিলেন মানুষের পাশে থাকতে মানুষের সাহায্য করতে, ভগবান হতে চাননি তিনি কখনোই। আমরা মানুষরা তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে এই জায়গায় বসিয়ে দেই নিজেদের স্বার্থে। এরপর দুটো প্রধান সংস্কৃতি হিন্দু মুসলিম, এদের বিবাদ বাধে। অনেককাল ধরে হয়ে আসা দাঙ্গা আজও কোথাও না কোথাও হয়েই চলেছে, মনে মনে হয়ত আমি আপনিও ভাবি কী লাভ এসবের তবুও ভাবি। অনেকে সেটাই বন্ধ করে দিয়েছে। রাজনীতি শব্দটার অর্থ খুবই ভিন্ন এবং সেটা ধর্মেরও ওপরে হয়ত। ধর্ম রাজনীতির সাথে জুড়ে দেওয়াটা মেনে নেওয়া মানে নিজের বাড়িতে তালা খুলে চোরকে আসতে দেওয়া। ধর্ম রাজনীতি দুটো সম্পূর্ণ পৃথক রাস্তা, এদের জুড়ে দেওয়া কখনোই ঠিক না।

> না, প্রাক্টিক্যালি যদি জানতে চাও তবে সত্যি হয়ত ভাবতে পারবে না। ভাবলেও কাউকে বলতে পারবে না, তোমার দলের বিরুদ্ধে বলতে গেলে তুমি অপসারিত হয়ে যেতে পারো, অন্য দলের লোকের বিরুদ্ধে বলতে গেলে তুমি খুনও হয়ে যেতে পারো।
তাও তুমি ভাবো, স্বাধীনভাবেই ভাবো। কারও ক্ষতি করে নয়, কারও ভালোর জন্য ভাবো। দেশের গরীবের জন্য ভাবো। রাজনীতি তোমাকে সাহায্য করবে, রাজনীতিটা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। আজ আমি তুমি আমরা সবাই মিলে যদি ভাবি, ভাবনা চিন্তার মাধ্যমে একটা সমাজ একটা সিস্টেম গড়ে তুলি তাহলে সেটা অনেক বেশি সুন্দর এবং অনেক বেশি মানবদরদী হবে, মানুষও পাশে দাঁড়াবে। আজ বিরোধিতা, স্বাধীন চেতনার বিলুপ্তির কারণ এই রাজনৈতিক ভয় ও রাজনীতির ব্যর্থতা। আগামী প্রজন্মের দায়িত্ত্ব থাকছে এটাকে সুন্দর করার এবং সফল করার।

> আমি প্রলোভনে পা দেবনা কথাটা মেইনটেন করা যেমন কঠিন তেমনই অসম্ভব। রাজনীতিতে থাকতে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই অনেক ভুল কাজ করতে হয় তবে ক্ষতি যদি কারো করেই থাক তবে তার সাহায্যও করে দিও কখনও। রাষ্ট্র তোমাকে অপরাধী বানাবে তোমাকে নিজে থেকেই সচেতন থাকতে হবে, তোমাকে নিজে থেকেই মানুষকে ভালোবাসতে হবে। তুমি অন্যের মত না এটা মাথায় রেখে চলতে হবে। আমি তুমি আমরা তুলনামূলকভাবে বেশি শিক্ষিত সব দিক থেকেই। আমরা মানুষের সুখ দুঃখের নিবারণ করতে পারব। ক্ষমতায় আসীন হয়েও নিজের ভালো থাকার জায়গাটা তাদের দিয়ে দেওয়া একজন সাধারণ নেতার দায়িত্ব ও কর্তব্য। কর্মসংস্থান যেমন তোমার দায়িত্ত্ব তেমনই মানুষের প্রতিনিধিত্ব করাও তোমার দায়িত্ব। ক্ষমতা না পেলেও ভালো কাজের শেষ নেই, কাজ করতে থাক নিজের লাভের কথা বাদ রেখে।
দিনের শেষে ঘুমটা তৃপ্তির হবে, আশ্বাস দিলাম 🙂

লেখায়,
আমি অভিরূপ

ধন্যবাদ

Leave a Comment