ভাষাবৈচিত্র্য না বৈষম্য

আমার কন্ট্যাক্ট-এ থাকা বেশ কিছু মানুষ সাউথ বেঙ্গলের এবং তাদের মধ্যে অনেকের হাব ভাব, আচার বিচার দেখে কিছু কথা লেখার ইচ্ছে হল (সবার জন্য না এটা, গায়ে মাখবেন না) ।
আমরা নর্থ বেঙ্গলের মানুষজন, ছোটবেলা থেকে কিছু কিছু শব্দ আছে যেগুলোর উচ্চারণে “এ” কার এর জায়গায় “আ” কার ব্যবহার করে এসেছি। যেমন – খাবা, যাবা ইত্যাদি। এটাই আমাদের প্রচলিত ভাষা। বাংলা ভাষার এক উপভাষা নাম কামরুপী উপভাষা, সাউথে হয়ত এর প্রচলন নেই সেভাবে ওখানে সেই রাড়ী উপভাষারই চল বেশি। অবশ্যই পার্থক্য রয়েছে শুনতে অন্যরকম লাগবেই, স্বাভাবিক ব্যপার। কিন্তু এই ভাষাবৈচিত্র্য বৈষম্যতে পরিণত হওয়ার ব্যপারটা ঠিক মেনে নেওয়া যায়না।
সাউথের ভাষা শিক্ষিতদের ভাষা, আমাদেরটা অশিক্ষিতদের। এই বৈষম্য সৃষ্টি কার দ্বারা কীভাবে হয়েছে কে জানে, কিন্তু এটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বেশ কিছু মানুষ। হয়ত আমরা আপনাদের ভাষার প্রতি বেশি সম্মান প্রদান করে এসেছি এতদিন ধরে যার দরুণ আজ এই পরিণতি। তাছাড়া এই বৈষম্য সৃষ্টি হবেই বা কী করে !
কৃষ্ণাঙ্গ শ্বেতাঙ্গ, হিন্দু মুসলিম ইত্যাদি বিষয়ে হামেশাই গলা তুলতে দেখেছি মানুষজনকে, একটু এইদিক দিয়েও ভেবে দেখা উচিৎ। আমরা বাঙালি, আমরা অনেককিছু নিয়ে গর্ববোধ করি কিন্তু এই ভাষার বৈষম্য অনেকটাই বিচ্ছেদ করে দিয়েছে নর্থ বেঙ্গলকে সাউথ থেকে।

হাসাহাসি করবেন করুন, খালি মনে রাখবেন ভাষার জন্য কিন্তু অনেকে রক্ত দিয়েছিল একসময়।

আমি এটাও বলে দিচ্ছি, আগে কলকাতার প্রতি একটা অন্যরকম ধারণা ছিল। এখন যেটা তৈরি হয়েছে সেটা হল, আপনাদের বেশিরভাগ লোকের বুদ্ধি কুয়োর ব্যাঙের মত এবং আপনারা বেশিরভাগই মানুষকে ছোট করতে ভালোবাসেন যদিও সবাই না।
আমি নর্থের ছেলে, আমার উপভাষাগুলোর ওপর আমি গর্ববোধ করি।

[মনে আঘাত দিয়ে থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী, আমারও আঘাত লেগেছিল তাই আমিও টাইপিং করছি]

লেখায়,
অভিরূপ

Leave a Comment