বিপক্ষ

আমি বিপক্ষে, আমি প্রথমেই বলে দিচ্ছি শাসকদলের বিপক্ষে আমি কথা বলে এসেছি এখনও তাই বলছি।
বিগত বেশ কিছুদিন ধরে কিছু কিছু মানুষের মেসেজ এবং ফোন করে আমাকে হুশিয়ারি দেওয়াটা ডেমোক্রেসির অঙ্গই মনে হয়, জানিনা ঠিক। শুধু আমি লিখছি বলে শুধু আমিই না, আরও অনেকে আছেন যাদের কাছে এইরূপ থ্রেট কল এসেছে, তারা হয়ত চুপ থেকেছেন নয়ত খবরগুলো পাবলিক করেননি। বিপক্ষে দাঁড়িয়ে বিরোধিতা করছি, যদি তুমি বল রাষ্ট্রের সমস্ত কথা আমায় শুনতে হবে নইলে আমি দেশদ্রোহী তবে আমি তাই, অত্যন্ত প্রিয় কিছু মানুষদের সাথে রাজনৈতিক তর্কে জড়িয়ে যাওয়ার পরেরদিনই বুঝে গেছিলাম এরকম আরো দিন আসবে, সেগুলোর জন্য তৈরি থাকতে হবে। ছাত্রদের সাথে আজ যেগুলো হয় সেগুলোকে নোংরা বলা চলে না, অপরাধের আরেক রূপ বললে বেশি ভালো হয়। তারা বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বললে তারা সমাজবিরোধী !
গান্ধীজি বলুন আর নেতাজীই বলুন, কেউই এরকম একটা দেশের কল্পনা করেননি। তারা সুন্দর একটা সমাজ একটা দেশের কল্পনা করেছিলেন। রামমন্দির নিয়ে কিংবা প্যান্ডেমিকে রাজনীতি, এটা কোন সমাজে বাস করছি আমরা ! আরও উদাহরণ দিচ্ছি, অনেক অবলা জীব আমাদের আশেপাশে সর্বদা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি, আপনি সেখানেও রাজনীতি ঢুকিয়ে দিলাম। হায়রে চিন্তাধারা !
মত, নীতি চেঞ্জ করা দরকার। ভালোবাসতে শিখুন মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীদের, রাজনীতি পরে করলেও হবে হয়ত। সেগুলোকে মুদ্দা বানিয়ে ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করার কোনো মানেই হয়না। এরকম এজেন্ডা চলার একটাই কারণ, কেননা আর কিছু হয়নি পাঁচ বছরে তাই এগুলোর ভিত্তিতে ভোট হবে। বিরোধীপক্ষ অনেক ক্ষেত্রেই ভুলভাল বলে থাকেন, কিন্তু যেগুলো ঠিক সেগুলো নিয়ে শাসকদল উদাসীন। ভুলগুলো নিয়ে খিল্লি করবেন করুন, আলু আর সোনার সম্পর্ক দেখতে চায়না কেউই; মানুষ এবং নেতার সম্পর্ক নিয়ে সবার কৌতুহল, এটা নিয়ে কথা বলুন। আপনারা শুধু খিল্লি করবেন উত্তর দেবেন না তা তো হয়না !
রাষ্ট্রের কিছু কিছু কাজকর্মের বিরোধিতা মানে দেশের বিরোধিতা এটা কেমন লজিক! ধরুন আজ আপনার বাড়িতে আপনার বাবাই একমাত্র সোর্স অফ্ ইনকাম, আপনি ছাত্র/ছাত্রী। বাবা একদিন মাছ নিয়ে এল বাজার থেকে দুপুরে মাছ দিয়ে ভাত খাবেন বলে কিন্তু সেদিন বাড়ির বাকি সদস্যরা নিরামিষ খেতে চেয়েছিলেন, কেননা রাতে নেমন্তন্ন রয়েছে সেখানে খাওয়া দাওয়া রিচ থাকবে প্রচণ্ড। এবার আপনারা সবাই মিলে বাবাকে বললেন বাবা আমরা নিরামিষ খাব, মাছ খাবোনা তারপর এটা শুনে আপনার বাবা আপনাদের বাড়ি থেকে বের করে দিবে ! অবশ্যই না, এটাই হল আসল ব্যপার। বিপক্ষে কথা বলা মানেই “না পোষালে পাকিস্তানে চলে যাও” ধারণা একেবারেই যুক্তিসঙ্গত নয় এটা জেনে রাখতে হবে আমাদের। আর এত বেশি হিংসাত্মক চিন্তাধারা এখন আমাদের মধ্যে বিরাজ করে এটার তো তুলনাই হয়না। মারমুখী হয়ে উঠেছি আমরা ক্রমাগত, এটা একেবারেই কাম্য নয়।

আমরা মানুষ। হিংসা, ভালোবাসা, বিচার, বুদ্ধির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটা জাত; আমরা হিংসা করতে পারি কিন্তু তার ক্ষতির কথা চিন্তা করব কেন। আমরা কারও কাজের ভিত্তিতে তাকে ভালোওবাসতে পারি কিন্তু সেটা চোখ বন্ধ করে কেন করব। আমি আপনি অবশ্যই বিচার বিবেচনা করব এগুলো নিয়ে, আমরা এটাই বন্ধ করে দিচ্ছি ক্রমাগত। ভিড়ের বিপরীতে যারা যাওয়ার চেষ্টা করছে তারা কেন এরকম একটা কঠিন রাস্তায় পা দিয়েছে সেটা জানার চেষ্টা কর, তাদের দমিয়ে দিও না।
‌যারা বিপক্ষে রয়েছেন তাদের জন্য অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে সবসময়, এটা সবক্ষেত্রে নাও থাকতে পারে তবে রাষ্ট্রের বিরোধিতা করার সাহস এখনকার দিনে সেভাবে দেখা যায়না তাই শ্রদ্ধাটা অনেকটাই বেশি । আশা করব আগামীদিন সুন্দর হবে ।।

লেখায় অভিরূপ

নমস্কার

Leave a Comment